আমাদের শরীরের হাড় গঠনের জন্য যে ক্যালসিয়াম প্রয়োজন তাঁর প্রধান উৎস দুধ। যাদের দুধ ও দুধ দিয়ে তৈরি খাদ্য হজমে সমস্যা হয় তাদের জন্য এটা সুসংবাদ যে এমন কিছু খাদ্য আছে যাদের মধ্যে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম থাকে। কিছু গাঢ়সবুজ রঙের শাকসবজি আছে যাদের মধ্যে দুধের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে।
১৪-১৮ বছরের একজন মানুষের দৈনিক ১৩০০ মিলিগ্রাম, ১৯-৫০ বছরের একজন মানুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম, ৫১-৭০ বছরের একজন পুরুষের দৈনিক ১০০০ মিলিগ্রাম এবং বছরের একজন মহিলার দৈনিক ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন। ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে হাত পায়ের আঙ্গুলের অসাড়তা, পেশির সংকোচন, খিঁচুনি, ঝিমুনি, ক্ষধামন্দা ও হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি সমস্যাগুলো হতে পারে।
ক্যালসিয়ামের অনেক ভালো একটি উৎস হচ্ছে বাঁধাকপি। দুই কাপ কাচাঁ বাঁধাকপিতে ২০১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
শালগমের বাল্ব বা কন্দ থেকে শালগম শাক জম্মায়। এতে ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফলেট থাকে যা মেজাজ ভালো করতেও সাহায্য করে। ১ কাপ রান্না করা শালগম শাকে ১৯৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে যা দৈনিক ক্যালসিয়ামের চাহিদার ২০% পূরণ করে।
সাধারণ তিলবীজ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রক্তচাপ কমায়,প্রদাহ কমায় এমনকি কিছু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এক টেবিল চামচ তিলবীজে ৮৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
৮ টি শুকনো ডুমুরে মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়াও এতে অ্যান্টি -অক্সিডেন্ট ও ফাইবার থাকে। মিষ্টি খাবার হিসেবে ডুমুর স্ন্যাক্সের মতো খাওয়া যায় আবার জ্যাম তৈরি করেও খাওয়া যায়।
আখকে চিনিতে রুপান্তরের সময় বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে গুড় উৎপন্ন হয় যা উচ্চমাত্রার পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। এতে কপার, ম্যাগনেসিয়াম, পটামিয়াম,ম্যাঙ্গানিজও থাকে। এক টেবিল চামচ গুড়ে ১৭২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
২০ টা কাঠবাদামে ৭১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এছাড়াও এতে পটামিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন- ই, জিস্ক ও আয়রন থাকে। এক আউন্স আমন্ড বাটারে ৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।
এছাড়াও কমলা, ওটমিল, সয়াদুধ,সামুদ্রিক শৈবাল, মাছ, ব্রোকলি,জাম, গাজর, মিষ্টিআলু, লেটুসপাতা, ঢেঁড়স, সরিষার শাক, পালং শাক ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে।
Designed & Developed by TechSolutions BD